শুরুর কথা
“রিয়াদুল মুসলিমাত” অসহায় নারী ও শিশুদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত শুধুমাত্র মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সংগঠন ।
এই সংগঠনের প্রধান কাজ দুঃস্থ নারী ও শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও কারিগরী শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের অবক্ষয় রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা৷
আমাদের সমাজের অবহেলিত , সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের দায়িত্বানুভূতি থেকে কিছু সমাজ সচেতন, শিক্ষানুরাগী , উদ্যোগী এবং সমমনা নারীদের আন্তরিকতা ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সংগঠনটি দীর্ঘ ৩২ বছর যাবৎ সুষ্ঠ- সুন্দর এবং সফলতার সহিত পরিচালিত হয়ে আসছে।
২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারী আমাদের এই সংগঠন বাংলাদেশ সরকারের মহিলা অধিদপ্তর হতে রেজিষ্ট্রেশন লাভ করে। রেজিষ্ট্রেশন নম্বর: JMBKO Ka/ DHAKA/ 288
সংবাদ
আমাদের কার্যক্রম
আমরা আমাদের নিরলস পরিশ্রম এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং নারীদের জীবন পরিবর্তন করতে যথা সম্ভব সহায়তা প্রদান করে থাকি।

তহবিল
আমরা যতটা সম্ভব সুবিধাবঞ্চিত শিশু এবং নারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের সাথে যোগাযোগ করি এবং অর্থায়ন করি।
সেবা প্রদান
বর্তমানে এতিম ও দুস্থ শিশুদের প্রতিটি পর্যায়ে একটি সহায়ক হাত এবং সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন। এখানে আমরা তাদরে নৈতিক, মানবিক এবং আর্থিক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করি।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা
কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থা
আয়মুখী কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা কারিগরী শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে থাকি।
নুরসিয়া হক স্মরণে
রিয়াদুল মুসলিমাত এর সাথে জড়িত সকলের অতি আপন এবং প্রিয় নাম নুরসিয়া হক।তবে সবার কাছে তিনি বেবী আপা নামেই অত্যন্ত সুপরিচিত। যাঁর অক্লান্ত শ্রম, আন্তরিক চেষ্টা আর মেধার ফলস্বরূপ বর্তমান “রিয়াদুল মুসলিমাত”। তিনি নিজেই দরিদ্র শিশুদের লেখা-পড়া করাতেন। শিক্ষা উপকরন এবং টিফিন দিয়ে দরিদ্র শিশুদের পড়াশুনায় আরো আগ্রহী করতেন। এছাড়াও পাশাপাশি এই সকল দরিদ্র শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কারিগরি শিক্ষার জন্য অর্থের জোগান করতেন তিনি নিজেই এবং তারই মতো কিছু সমমনা নারীদের মাধ্যমে।তার আদর, সুশাসন, সহনশীলতা, বিচক্ষণতায় এবং তার ভালোবাসায় বড় হয়ে ওঠা রিয়াদুল মুসলিমাত এর সকল শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন বড় নানু হিসেবে।
১৫ই মার্চ ১৯৪৬ সালে তার জন্ম।ব্যবসায়ী বাবা কাজী আব্দুল হামিদ এবং গৃহিণী মা জোহরা খাতুন এর একমাত্র কন্যা সন্তান ছিলেন নুরসিয়া হক।বাবা-মা আর দুই ভাইয়ের চোখের মণি ছিলেন তিনি। জন্মের ২ বছরের মাথায় বাবাকে হারালেও বড় ভাই সব সময় বাবার মত আগলে রেখেছেন পরম মমতায়।ভালোবেসে তাই তিনি তাঁর বড় ভাইকে মিয়াভাই নামেই ডাকতেন। শিক্ষা জীবনে তিনি বদরুন্নেসা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ইডেন কলেজ থেকে ডিগ্রী পাস করেন। বৈবাহিক জীবনে তার স্বামী শেখ মোমিনুল হক ছিলেন তৎকালীন গ্রীন ডেল্টা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর।সাংসারিক জীবনে তিনি এক ছেলে এবং এক মেয়ের জননী। বড় মেয়ে মাহবুবা লিসা মেসবাহউদ্দিন বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী এবং একজন শিক্ষিকা। ছোট ছেলে এস.কে তৌফিক হক বর্তমানে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ২০১৮ সালের ২৭ই আগস্ট তিনি ঢাকার পপুলার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ঢাকা আজিমপুর কবরস্থানে তাকে চির সমাহীত করা হয়েছে।

আমাদের কিছু পরিসংখ্যান
আমাদের এই পথ চলায় সম্মানিত সদস্যদের সকল সহযোগিতা একান্ত বিনয়ের সাথে স্মরণ করছি এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি
কার্যনির্বাহী কমিটি














